জাপানে সম্প্রতি চালের দাম গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে চালের উচ্চমূল্যে ভোগান্তিতে থাকা জাপানি ভোক্তাদের জন্য গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার প্রশাসন সরকারি মজুদ থেকে চাল বাজারে ছাড়ে। দ্বিতীয় দফায় জরুরি মজুদ থেকে আরো তিন লাখ টন চাল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার। সম্প্রতি প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বছর অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ধানের ফলন কম হওয়ায় চালের সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া এ সময় পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে চাহিদাও ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
জাপানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এক বছরে যে পরিমাণ চাল মজুদ থেকে বাজারে ছাড়া হয়, পরবর্তী সময়ে একই পরিমাণ চাল আবার ক্রয় করতে হয়। তবে মজুদ পূরণের এ সময়সীমা এর আগে এক বছর থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। এছাড়া কিছু চাল পাইকারি বিক্রেতাদের পরিবর্তে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করা হবে।
এদিকে মজুদ থেকে চাল ছাড়ার পরও দাম না কমায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্ত কোটার বাইরে বিদেশী চাল আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে। এক্ষেত্রে আমদানির ওপর প্রচলিত শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
জাপানি রেস্তোরাঁসহ সাধারণ ভোক্তারাও বর্তমানে তুলনামূলক অনেক সস্তা হওয়ায় বিদেশী চাল ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। এমনকি আমদানি শুল্ক বেশি থাকা সত্ত্বেও বিদেশী চাল এখন দেশী চালের তুলনায় সস্তা।
বর্তমানে জাপানে ৫ কেজি চাল কিনতে গড়ে ৪ হাজার ২১৪ ইয়েন বা প্রায় ২৮ ডলার খরচ হয়, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।